রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজমের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০১:৫৪ পিএম, ২০২৬-০৮-২৩

রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজমের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা

দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিন, অর্থাৎ মোট ৬৪৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের (আরএইচডিসি) সাবেক সদস্য মো. হাবীব আজমকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়।

বিদায় সংবর্ধনা শেষে সম্মেলন কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে জেলা পরিষদ চত্বরে অপেক্ষমাণ শত শত ছাত্র-যুবক, নারী, প্রবীণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ করতালির মাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

মুহূর্তেই চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে স্লোগানে। শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফুলের মালায় তাঁকে বরণ করে নেন এবং পরে এক প্রীতি শোভাযাত্রার মাধ্যমে সশ্রদ্ধভাবে তাঁর বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানান, জেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের বহু আগে থেকেই মো. হাবীব আজম রাঙামাটির সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

প্রায় এক যুগ ধরে তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে গেছেন।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড কিংবা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুর্গম এলাকার অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দ্রুত খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।

দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানুষের প্রয়োজনের মুহূর্তে উপস্থিত থাকার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বলেও মন্তব্য করেন উপস্থিতরা।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, জনকল্যাণে তাঁর অবদান কেবল দুর্যোগ মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ ছিল না।

অসংখ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ, মুমূর্ষু ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং স্থানীয় পাঠাগারে বই প্রদানসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি জনসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এছাড়া পাহাড়ি ও বাঙালি অধ্যুষিত রাঙামাটিতে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলেও মো. হাবীব আজমের জনসেবার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা রাঙামাটির মানুষের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তাঁদের মতে, এই বিদায় কেবল একটি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়; বরং জনকল্যাণের এক মানবিক পথচলার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে উপস্থিত ছাত্র-জনতার একাংশ ভবিষ্যতে মো. হাবীব আজমকে পৌরসভা নির্বাচন কিংবা প্রয়োজনে রাঙামাটি-২৯৯ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বলে তাঁদের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।

আবেগ, শ্রদ্ধা এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা রাঙামাটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত আয়োজন হিসেবে উপস্থিত সবার কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।