রাজস্থলীতে দুর্যোগকবলিত ৬০০ পরিবারকে জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা


আজগর আলী খান    |    ০৭:৩৯ পিএম, ২০২৬-০৮-১৫

রাজস্থলীতে দুর্যোগকবলিত ৬০০ পরিবারকে জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা

সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৬০০ কর্মহীন, অসহায় ও দুর্যোগকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজস্থলী উপজেলা খাদ্যগুদাম সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য প্রতুল দেওয়ান, সহসভাপতি ছকির আহম্মদ, যুগ্ম সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, যুগ্ম সম্পাদক রফিক আহম্মদ, সাবেক গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোলায়মান, যুবদলের সদস্যসচিব উজ্জ্বল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, কৃষক দলের সভাপতি বিষু সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুমন খান, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সিদ্দিক মোল্লা, ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভুবন তঞ্চঙ্গ্যা, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, মহিলা নেত্রী লাকি মারমা, শিল্পী বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজস্থলীর বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে।

এমন মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

তাদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট মোকাবিলায় পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুর্যোগকবলিত পরিবারের মাঝে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো অসহায় পরিবার সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

বক্তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

এ অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সংকট কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করা গেলে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।

এদিকে, দুর্যোগের সময়ে হঠাৎ পাওয়া খাদ্য সহায়তায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

খাদ্য সংকটের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর জন্য তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্যোগের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া একটি সময়োপযোগী মানবিক উদ্যোগ।

এ ধরনের সহায়তা দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করবে।