পাহাড়ে নারী সহিংসতা প্রতিরোধে নানিয়ারচরে উইভ’র ডায়ালগ অনুষ্ঠিত


মাহাদি বিন সুলতান    |    ১০:৩৬ পিএম, ২০২৬-০২-২৫

পাহাড়ে নারী সহিংসতা প্রতিরোধে নানিয়ারচরে উইভ’র ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে নানিয়ারচরে এক গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উইমেন্স এডুকেশন ফর এডুকেশন অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (উইভ) আয়োজিত এ কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে নারী নিরাপত্তা জোরদার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নানিয়ারচর হর্টিকালচার সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. শাফাকাত বিন ফরিদ।

ডায়ালগে বক্তারা নারী নির্যাতন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, প্রথাগত সামাজিক ব্যাধি, প্রযুক্তিগত সহায়তার ব্যবহার, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ভুক্তভোগী নারীদের দ্রুত আইনি সহায়তার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমে সহিংসতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উইভ’র প্রতিষ্ঠাতা নাইউ প্রু মারমা মেরী, নানিয়ারচর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিয়া চাকমা, নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জের প্রতিনিধি এসআই মো. মোয়াজ্জেম, উইভ প্রকল্পের সমন্বয়ক সুকান্ত চাকমা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রণয়ন চাকমা, মনিটরিং অফিসার ওহিন স্যুই রোয়াজা, প্রোগ্রাম কাম ট্রেইনার রুনু চাকমা, কমিউনিটি মোবিলাইজার মংসাপ্রু মারমা ও তুনিকা খীসাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা আরও জানান, নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।

পাশাপাশি, সহিংসতার শিকার নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মানসিক, সামাজিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত আকারে আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।