রাঙামাটিতে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন, চার দফা দাবি


নাজিম আল হাসান    |    ০৭:০৯ পিএম, ২০২৬-০২-২৩

রাঙামাটিতে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন, চার দফা দাবি

রাঙামাটিতে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, জেলা শাখার উদ্যোগে চার দফা দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৪টায় শহরের বনরূপা এলাকার আয়োজন রেস্তোরাঁয় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মো. জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোটা বৈষম্য, অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকল দল-মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ‘কোটা বিরোধী ঐক্যজোট’ গঠন করা হয়।

বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় আলোচনা সভা, প্রতিবাদ মিছিল, ঘেরাও ও হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

আন্দোলনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল এবং আন্দোলন সফল হয়েছে বলে দাবি করেন নেতারা। তবে জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়—

১. পার্বত্য জেলা পরিষদে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিষদ গঠন নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষক নিয়োগসহ শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
৩. সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা।
৪. সকল জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।

নেতারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ও প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালসহ সংশ্লিষ্টদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারের ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বক্তব্যে তারা আশাবাদী।

তারা আরও বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করা হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

একই ভোটার তালিকায় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনে আপত্তির কোনো যৌক্তিকতা নেই।

অতীতে মনোনয়ন বা সিলেকশনের মাধ্যমে পরিষদ গঠনের ফলে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, তাদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবিকে বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একপর্যায়ে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকার করেছেন।

তাই আগামী নিয়োগ কার্যক্রমে এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা। অন্যথায় জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেন নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তারা একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চান এবং এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত আছেন।