লক্ষীছড়িতে নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১০:১৫ পিএম, ২০২৬-০১-০৩

লক্ষীছড়িতে নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং খেলাধুলার প্রসার ও নারী ক্রীড়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে “সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬ (মহিলা)” এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন লক্ষীছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, ক্রীড়া, সামাজিক সম্প্রীতি ও যুব উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে যে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, এই আয়োজন তারই ধারাবাহিকতা বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লক্ষীছড়ি সেনা জোনের অফিসারবৃন্দ, লক্ষীছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আয়োজক কমিটির সদস্য, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর খেলোয়াড় ও কোচ এবং লক্ষীছড়ি এলাকার বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে লক্ষীছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এবারের টুর্নামেন্টে লক্ষীছড়ি জোনের আওতাধীন মোট চারটি নারী ফুটবল দল অংশগ্রহণ করছে। দলগুলো হলো— দুল্যাতলী বালিকা দল (দুল্যাতলী ক্যাম্প), লক্ষীছড়ি জুনিয়র টিম একাদশ (লক্ষীছড়ি), বাইন্যাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় বালিকা একাদশ (বাইন্যাছড়া ক্যাম্প) এবং মরাচেঙ্গী বালিকা দল (লক্ষীছড়ি)।

উদ্বোধনী বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এই টুর্নামেন্টের লক্ষ্য শুধু একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করা।

তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের দক্ষতা বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং হতাশা ও বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে নেতৃত্বগুণ, আত্মবিশ্বাস, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।

সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এই নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

জোন অধিনায়ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমেই লক্ষীছড়ির গর্ব ও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত নারী ফুটবলার মণিকা চাকমার মতো আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় ভবিষ্যতে উঠে আসবে।

তিনি আরও বলেন, ফুটবল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় খেলা, যা নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখে।

একই সঙ্গে খেলাধুলা নারীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়তা করে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারী ক্রীড়ার উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।