রাঙামাটিতে সম্প্রীতির মিনি ম্যারাথন আয়োজন জেলা পুলিশের


মেহেদী হাসান    |    ০৭:৫৬ পিএম, ২০২৫-১১-০৩

রাঙামাটিতে সম্প্রীতির মিনি ম্যারাথন আয়োজন জেলা পুলিশের

রাঙামাটি, ৩ নভেম্বর — নানান জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থানের বৈচিত্র্যময় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য আয়োজন—“সম্প্রীতি মিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা ২০২৫”।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিনি ম্যারাথনটি রাঙামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ম্যারি স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ড. ফরহাদ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) ফরিদা ইয়াসমিন এবং ডিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী নুসরাত এদীব লুনা।

জেলা পুলিশের এমন উদ্যোগে স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীরা প্রশংসা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি পারস্পরিক বোঝাপড়া, ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির অন্যতম কার্যকর উপায়।

বিশেষ অতিথি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন,
“সম্প্রীতির এই মিনি ম্যারাথন কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি শান্তি, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের প্রতীক। পাহাড়ি-বাঙালি সবাই যখন একসাথে দৌড়ায়, তখন প্রকৃত বাংলাদেশি ঐক্যের চিত্র ফুটে ওঠে। পুলিশের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

এসময় ডিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী নুসরাত এদীব লুনা বলেন,
“এই আয়োজন শুধু দৌড় নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক বার্তা—আমরা সবাই একসাথে চলতে চাই। নারী-পুরুষ, পাহাড়ি-বাঙালি সবাই মিলেমিশে অংশ নিচ্ছেন—এটাই সম্প্রীতির বাংলাদেশ।

পুলিশ বাহিনী শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, সমাজে ঐক্য ও মানবতার বার্তাও ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।”

সভাপতির বক্তব্যে এসপি ড. ফরহাদ হোসেন বলেন,
“রাঙামাটি একটি সম্প্রীতির জেলা। এখানে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠী বহুদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

সম্প্রীতি মিনি ম্যারাথনের মাধ্যমে আমরা সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে চাই। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে, যা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।”

রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানায়, পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্য রক্ষার লক্ষ্যেই ভবিষ্যতেও এ ধরনের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।