আলমগীর মানিক | ০৭:২৩ পিএম, ২০২৬-১০-১৭
আলমগীর মানিক
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পাথর বেঁধে পানির নিচে লুকিয়ে রাখার অভিযোগের মধ্যে আরাফাত (১৮–১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে বরকল উপজেলার ১ নম্বর শুভলং ইউনিয়নের জোড়াটিলা এলাকার হ্রদের পানির নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত যুবক যে মাছ ধরার বোটে কাজ করতেন, সেই বোটের মালিক শফিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক শফিকের দেখানো স্থান থেকেই আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, কারা এতে জড়িত এবং ঘটনার পেছনে অন্য কেউ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর রাত থেকে আরাফাত নিখোঁজ ছিলেন। তিনি শফিকের মাছ ধরার বোটে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কেঁসকি জাল টেনে মাছ ধরাই ছিল তাঁর কাজ। আরাফাতের বাড়ি কোথায়, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের পর তাঁকে খুঁজতে তৎপরতা শুরু হয়। বোটের মালিক শফিকসহ অন্যরাও তাঁকে খোঁজার কথা জানান। রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল হ্রদের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লংগদু উপজেলার মহালছড়ি এলাকা থেকে শফিককে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য ও শফিকের দেখানো স্থান অনুসারে শনিবার বিকেলে জোড়াটিলা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সঙ্গে পাথর বাঁধা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উদ্ধারের পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শফিককে আটক করা হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
অভিযোগ রয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের কাট্টলী বিল, বরকল ও লংগদু এলাকার বিভিন্ন ঘোনায় কেঁসকি জালসহ নানা ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরার কাজে এসব শ্রমিককে নিয়োজিত করা হয়।
দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার কাজে আনা হয়। পরে তাঁদের একটি অংশকে বিভিন্ন বোটের মালিক বা জেলে দলের কাছে কাজের জন্য বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে তাঁদের কারও কারও প্রতিশ্রুত বেতন দেওয়া হয় না।
আবার কাউকে কাউকে নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রেখে কাজ করানো, বাড়ি ফেরার ছুটি না দেওয়া এবং মজুরি চাইলে মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের থাকার ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং শুধু খাবার দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয়। তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করার মতো গুরুত্বর অভিযোগও একাধিকবার উঠলেও সংশ্লিষ্ট্যরা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আলমগীর মানিক : পাহাড়ের জনপদ রাঙামাটি থেকে জাতীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন তর...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির বড়াদম সড়কের লাভ পয়েন্ট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সোকেল চাকমা (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান পরিস্থিতিতে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যেন কেউ বিশৃঙ্খলà¦...বিস্তারিত
আজগর আলী খান : শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দঘন ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে সহযোগিতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্য...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি শহরে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছাগল চুরির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছেà...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে রাঙামাটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited