নাজিম আল হাসান | ১২:২৪ এএম, ২০২৬-০৮-১৯
নারী ও শিশুদের সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জেন্ডার সমতা বিষয়ে রাঙামাটিতে সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে চিংহা মং চৌধুরী মারি স্টেডিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে তিন পার্বত্য জেলা থেকে বাছাইকৃত প্রমিলা ফুটবল খেলোয়াড়রা অংশ নেন। প্রকল্পের আওতায় প্রতি জেলায় ২২ জন করে মোট ১৯৮ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে ৯টি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের যুগ্মসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ।
আলোচনায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম সেশনে শিশু ও কিশোরীদের পুষ্টি, বয়ঃসন্ধিকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
দ্বিতীয় সেশনে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশু অধিকার আইন বিষয়ে আইনি সচেতনতা দেওয়া হয়। তৃতীয় সেশনে সাইবার নিরাপত্তা, জেন্ডার সমতা ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের পাশাপাশি ক্রীড়ার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচক হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. পম্পী চাকমা, আইনি সুরক্ষা বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, রাঙামাটির পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মাকসুদা হক এবং নারী ও শিশু বিষয়ক সচেতনতা নিয়ে উইমেন রিসোর্স নেটওয়ার্ক, রাঙামাটির সদস্য নুকু চাকমা বক্তব্য দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, রাঙামাটির পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতা নারীর প্রতি সহিংসতার অন্যতম প্রধান কারণ। বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং যৌতুক দাবি বা গ্রহণও আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য। একইভাবে শারীরিক, মানসিক বা অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতনের শিকার হলে নারীরা নীরব না থেকে আইনগত সহায়তা নেওয়ার অধিকার রাখেন। তিনি নারী ও শিশুদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত পরিবার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম পথ।
আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রমিলা ফুটবলারদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, সহিংসতা ও সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের নারী ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহিত করে সমাজে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সেমিনারের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আইনি অধিকার, অনলাইন নিরাপত্তা এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে নারী ফুটবলের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বা...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় সফরকালে আরশিনগর ক্যাম্প ও পুলিশ লাইনস পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের à...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামালির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগের প...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা দ...বিস্তারিত
আজগর আলী খান : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited