নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯:৩০ পিএম, ২০২৬-০৮-০৩
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় খাদ্যশস্য বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের স্মারকের ভিত্তিতে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত উপকারভোগীদের অজ্ঞাতে তাদের নামে বিপুল পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চালের পরিবর্তে সামান্য অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুকূলে ১৬ জন উদ্যোক্তার নামে মোট ১৬৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। তবে বরাদ্দ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, মহালছড়ি উপজেলার থলিপাড়া হাজাছড়ি গ্রামের পাঁচজনের নামেই মোট ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, নিটন খীসা-এর নামে গবাদিপশু পালন প্রকল্পে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও তিনি দাবি করেছেন, চালের পরিবর্তে তিনি মাত্র ২ লাখ টাকা পেয়েছেন।
রূপসী চাকমা-র নামে শুকর পালন প্রকল্পে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের তথ্য থাকলেও তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো চাল কিংবা অর্থ পাননি।
রাজিব কান্তি খীসা-র নামে বাগান সৃষ্টি ও সেচ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও তার দাবি, তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা।
একইভাবে পিন্টু খীসা-র নামে মিশ্র ফলজ বাগান প্রকল্পে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো চাল বা অর্থ পাননি। এমনকি তার নামে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ হয়েছে বলেও আগে জানতেন না।
অন্যদিকে ইনন্ত চাকমা-র নামে দেশীয় ছাগল পালন প্রকল্পে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অবশিষ্ট ১১ জন উদ্যোক্তার নামে আরও ৭৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন: ফরিদুর রহমান, আবু তালেব, জসীম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, মোছা. আনোয়ারা বেগম, মো. সেলিম, সাখাওয়াত হোসেন আল আমিন, আরিফুল ইসলাম, মো. রবিউল ইসলাম, নুপুর আক্তার এবং মো. মিজানুর রহমান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই তাদের নামে সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দের বিষয়টি জানতেন না। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ সরকারি নথিতে তাদের নামে বহু মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি খাদ্যশস্যের একটি অংশ আত্মসাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের দাবি, প্রকৃত উপকারভোগীদের অজ্ঞাতে কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বঙ্গমিত্র চাকমার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, "এতদিন তারা কোথায় ছিলেন? আমার নামে মামলা করতে বলেন।"
আলমগীর মানিক : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার, মাদক উদ্ধ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির কাউখালীতে আট বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আইনজীবীদের আরও কঠ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চার মাদক কারবারি, পাঁচ মাদকসেবী ও এক ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া কলেজ পরিদর্শন করেছেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited