আলমগীর মানিক | ০২:২১ পিএম, ২০২৬-০৭-১৮
আলমগীর মানিক
টানা বর্ষণ কিছুটা কমলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। হ্রদের পানি নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখতে এবং উজান-ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে দিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। যদিও বাঁধটির সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল, তবে উজান থেকে অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং চলমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বা উজান থেকে পানির প্রবাহ আরও বাড়লে পর্যায়ক্রমে গেটের উচ্চতা বৃদ্ধি করে আরও বেশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে মোট ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ স্পিলওয়ে ও বিদ্যুৎ উৎপাদন; এই দুই প্রক্রিয়া মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
স্পিলওয়ের গেট খুলে দেওয়ার পর কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দা, জেলে, নৌযান চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনে অবস্থান না করা এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের প্রথম ও একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৫৬ সালে এবং ১৯৬২ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। বাঁধটির পাশে ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ স্পিলওয়েতে ১৬টি জলকপাট রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। শুরুতে দুটি ইউনিটে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বা...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় সফরকালে আরশিনগর ক্যাম্প ও পুলিশ লাইনস পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের à...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামালির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগের প...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা দ...বিস্তারিত
আজগর আলী খান : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited