নাজিম আল হাসান | ০৮:২৪ পিএম, ২০২৬-০৭-১১
টানা ছয় দিনের অতি ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
রাঙামাটি–বান্দরবান সড়কের ব্রিজঘাটা সেতুর দক্ষিণ পাশের একটি পিলার শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শনিবার সকালে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ভারী বর্ষণের ফলে রাজস্থলী উপজেলার প্রধান সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসানের নির্দেশনায় উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত সড়কে জমে থাকা মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শত শত হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৫ হাজার পরিবারের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বন্যার পাশাপাশি জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। বাঘাইছড়ি–দীঘিনালা আঞ্চলিক সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ধস ও সড়ক ধসে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া লংগদু–দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হওয়ায় লংগদুর সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হলেও দুর্গম প্লাবিত এলাকাগুলোতে এখনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে এ পর্যন্ত ১০৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনো ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে রাঙামাটির ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৫০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে আগামী রোববার থেকে বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এই খাদ্যশস্য বিতরণ শুরু হবে।
আলমগীর মানিক : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার, মাদক উদ্ধ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির কাউখালীতে আট বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আইনজীবীদের আরও কঠ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চার মাদক কারবারি, পাঁচ মাদকসেবী ও এক ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া কলেজ পরিদর্শন করেছেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited