হিজাছড়িতে ৩য় বারের মতো কঠিন চীবর দান আয়োজন।


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৯:০১ পিএম, ২০২৫-১০-১৩

হিজাছড়িতে ৩য় বারের মতো কঠিন চীবর দান আয়োজন।

বিশ্ব শান্তি ও সকল জীবের মঙ্গল কামনায় রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার হিজাছড়ি আর্যরত্ন বন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩য় বারের মতো শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান-২০২৫।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকালে হিজাছড়ি আর্যরত্ন বন বিহার পরিচালনা কমিটির আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ভিক্ষু সংঘের প্রাতঃরাশ, বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন, ত্রিশরণ ও পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্টপরিষ্কার দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্টান সম্পন্ন হয়।

পরে পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের মধ্যে ভদন্ত প্রজ্ঞাবোধি মহাস্থবির ও পূর্ণজ্যোতি মহাস্থবির ধর্মদেশনা প্রদান করেন। এর আগে রবিন চাকমা ও রবিনা চাকমার প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিঝু চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড মেম্বার ক্যাহলা প্রু মার্মা।

দ্বিতীয় পর্বে শোভাযাত্রার মাধ্যমে কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে আনা হয়। পূজনীয় ভিক্ষু সংঘ মঞ্চে আসন গ্রহণ করলে তাদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর শিল্পী নোভেল চাকমার কণ্ঠে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

পরে দানোত্তম কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান ও হাজার প্রদীপ দান উৎসর্গ করা হয়। বিশ্বের সকল প্রাণীর হিত, সুখ ও মঙ্গল কামনায় পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের নিকট বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

এ সময় ফুরমোন আন্তর্জাতিক ধ্যান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভৃগু মহাস্থবির ভান্তে সংঘের প্রধান হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বধর্ম দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও ধর্মদেশনা প্রদান করেন হিজাছড়ি আর্যরত্ন বন বিহারের অধ্যক্ষ বিদর্শন স্থবির ও জিনপ্রিয় মহাস্থবির ভিক্ষু।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিলাল চাকমা। উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অমরজীব চাকমা, শিক্ষক প্রীতিময় চাকমা, ওয়ার্ড মেম্বার জ্ঞান তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রসঙ্গত, প্রবারণা পূর্ণিমার (আশ্বিনী) পরদিন হতে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বৌদ্ধ বিনয় অনুসারে বছরে একটি বিহারে একবারই এই অনুষ্ঠান করা যায়। তবে সেই বিহারে অবশ্যই ভিক্ষু বা সংঘকে তিন মাস বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান সম্পন্ন করতে হয়। তবেই উক্ত বিহারে কঠিন চীবর দান কার্য সম্পাদন করা সম্ভব।