নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯:২৪ পিএম, ২০২৫-০৭-৩১
মাহাদী বিন সুলতান
রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় উচ্চমূল্যের কফি ও কাজুবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রথম বছরেই ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ চাষ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ায় ধীরে ধীরে অন্যরাও এতে উৎসাহিত হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে উপজেলার সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের রামসুপারি পাড়া এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, গাছে ঝুলছে পরিপূর্ণ কফির ফলন। স্থানীয় কফি চাষি সুনিল কান্তি চাকমা জানান, “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্প” এর আওতায় ১ একর জমিতে কফি চাষ শুরু করেন তিনি। মাত্র এক বছরেই ফলন পেয়ে তিনি দেখছেন অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।
একই এলাকার কৃষক এরেবোয়া চাকমা জানান, উন্নয়ন বোর্ড থেকে পাওয়া কফি, লটকন, নিম, চুইঝাল, পেপে চারা এবং সার রোপন করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। তার মতে, এ প্রকল্প পাহাড়ি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
স্থানীয় কৃষক বাবুল চাকমা জানিয়েছেন, “সেগুন গাছ বিক্রির উপযোগী হতে ২০-২৫ বছর লাগে, অথচ কফি গাছ এক বছরেই ফলন দেয় এবং ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফলন ধরে রাখে। তাই কফি চাষ সেগুনের তুলনায় বহুগুণ লাভজনক।”
মেজরপাড়া এলাকার ক্যান্টন চাকমাও একই মতামত ব্যক্ত করে বলেন, কফি চাষে পাহাড়ের কৃষকদের আর্থিক উন্নতি দ্রুত হবে।
দ্বিচানপাড়া এলাকার ধনঞ্জয় চাকমা জানান, কফি চারা রোপনের সময় অনেকে তাকে পাগল বলেছিল। কিন্তু এখন ফলন দেখে তারা প্রশংসা করছেন।
অন্যদিকে একই এলাকার গৃহিণী মিতালী চাকমা জানান, উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় ১ একর জমিতে কাজুবাদাম চাষ করে গেলো দুই বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন তিনি। আগামীতে আরও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
রামসুপারি পাড়া এলাকার নয়ন জিৎ চাকমা, চিক্কোমনি চাকমা, রিপন চাকমা ও গুরি মরৎ চাকমা বলেন, কফি ও কাজুবাদাম চাষ পাহাড়ি অন্যান্য কৃষি পণ্যের তুলনায় লাভজনক। পাশাপাশি লটকন, কলা, পেপে, মাল্টা ও কমলার মতো অর্থকরী ফসলের চাষেও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
নানিয়ারচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ বলেন, “বড় গাছের ছায়াতেও কফি চাষ করা যায়, যা একটি বড় সুবিধা। খুব বেশি সার ও পরিচর্যা প্রয়োজন হয় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে গাছের ফলন দ্বিগুণ হয়। আর প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করলে আরও বেশি দাম পাওয়া যায়।” তিনি আরও জানান, সরকারি উদ্যোগে কফি প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে নানিয়ারচরসহ সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে কফি ও কাজুবাদাম চাষ অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বা...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় সফরকালে আরশিনগর ক্যাম্প ও পুলিশ লাইনস পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের à...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামালির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগের প...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা দ...বিস্তারিত
আজগর আলী খান : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited