জবরদখলকৃত জমি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রতিবন্ধি মুক্তিযোদ্ধার আকুঁতি


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১২:১৬ এএম, ২০২৩-০৭-১১

জবরদখলকৃত জমি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রতিবন্ধি মুক্তিযোদ্ধার আকুঁতি

নিজের আপন চাচা রব্বত আলী ও জেঠা আমীর আলীর বিরুদ্ধে জায়গা জমি জবরদখলসহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম ও তার ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার (১০ জুলাই) সকালে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলামের ছেলে মোবারক আলী। সংবাদ সম্মেলনে নিজের, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ জমি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ৮০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, ১৯৫৮ সালে আমার বাবা আমজাত আলী মৃত্যু বরণ করলে তখন আমার পিতার কোন ওয়ারিশ নাই বলে আমার চাচা রব্বত আলীর নামে ও জেঠা আমীর আলীর নামে সকল জায়গা রেকর্ড করে ফেলে। ২৫০/৭ খতিয়ান থেকে কিছু জায়গা তৎকালীন হেডম্যান থোয়াইপ্রু চৌধুরীর নামে ঘুষ হিসেবে রেকর্ড করে দেয়। পরে আমি জানতে পারি চাচা ও জেঠার কাছে মৌখিক আপত্তি করলে তখন রব্বত আলী বলে টাকা দিলে তোমার বাবার জায়গা তোমার নামে নাম জারি করে দেব। আমি তার দাবি অনুয়ায়ী টাকা দিলেও তারা আমাকে জায়গা নাম জারি করে দেয়নি।

আমি যখন আমার জায়গা ফেরৎ চায় তখন চাচা রব্বত আলী ও তার ছেলেরা আমাকে প্রাণ নামের হুমকি প্রদান করে। তখন আমি নিরুপায় হয়ে ১৪৪/৭৭ সালে জেলা প্রশাসকের কাছে মামলা করি। আমার মামলা দেখে জরেজমিনে তদন্তের আদেশ দেন। তদন্তে প্রতিবেদন দেখে সব বিবাদীর কাছে নোটিশ প্রদান করেন। বিবাদীগণ কয়েক মিছিলে হাজির হওয়ার পর আর হাজির হয়নি। পরবর্তীতে থোয়াইপ্রু চৌধুরীর ওয়ারিশরা না দাবি প্রদান করেন।

এরপর বাকি বিবাদীর কাছে অনেক নোটিশ প্রদান করার পরও তারা আর হাজির হয়নি। এর পর জেলা প্রশাসক মামলাটি পর্যালোচনা করে ০৫/০৮/১৯৮১ সালে বাদি গনের পক্ষে রায় প্রদান করেন। এরপর ৭৩৫ খতিয়ানের জমি বাদীগনের নামে জমতাবন্দি নোট করে আর ১৪৪/৭৭ সালে মামলার আদেশ মলে ২৮নং হোল্ডিং এর ৪৬৬ নং খতিয়ান ৩একর থেকে যে ২ একর জায়গা রব্বত আলী নামে রেকর্ড করে তা আমাদের নামে নাম জারির নোট করে। পরবর্তীতে আরও ১ একজর জায়গা নোট করা হয়নি। ২৫০/৭ খতিয়ানের মোট ৫ একর জায়গা থেকে আমাদের নামে নাম জারি হয় ১. ৬৭ শতক। বাকী সম্পূর্ণ জায়গা তাদের নামে রেকর্ড রয়ে গেছে। এরপর ১৪৪/৭৭ মামলা সম্পর্কে বিবাদীগণ অবগত নয় বলে সিভিল ৫৮৮৯ মামলা দায়ের করে।

আমরা যখন আদালতে প্রমান দিয়েছি তখন মামলা আমাদের পক্ষে রায় দেয়। এরপর আমাদেরকে জিআর-১১ মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানী করেছে। আমরা যখন নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি সিভিল ৫৮৮৯ মামলার একটা পঞ্চায়েত দিয়ে ০.৫০ শতক জায়গা বিবাদীর অনুকলে দেওযার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন আমরা এটা দেখে আপিলের সিদ্ধান্ত নিলে আমাকে অনেকবার প্রাণে মারার চেষ্টা করে।

এরপর আমি চন্দ্রঘোনা থানায় একটি জিডি করি, জিডি নং-৫৯০। এর পর গত ২০/০৪/১৯৯৪ সালে সালিমের জন্য ডেকে নিয়ে আমাকে প্রাণে মারার জন্য এডিস নিক্ষেপ করে। এতে আমার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। পরে আমি সুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কোর্টে ১২৯৫ মামলা আপিল করি। ঐ সিভিল ৫৮৮৯ মামলা বাতিল করে আমাদের নামে সমস্ত জায়গা ফিরিয়ে দেয়। ১২৯৫ মামলাটি আবার নিম্ন আদালতে প্রেরণ করে সে আবার রাঙামাটি জজ কোর্টে ৪৪৩ মামলা রুজু করে। সেই মামলাও ১০/০৭/২০১৮ সালে আমাদের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু আমাদের পক্ষে রায় দেয়ার পরও চাচা রব্বত আলী ও জেঠা আমীর আলী উক্ত জায়গা জমি জবরদখলসহ আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছে। 

তাই উক্ত জায়গা জমি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকি থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট্য প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামসহ ভুক্তভোগী পরিবারগণ।