রাঙামাটিতে ১১ কেভি লাইনে ঝলসে গুরুত্বর আহত শ্রমিকের মৃত্যু


আলমগীর মানিক    |    ১২:৪১ এএম, ২০২২-০৩-১২

রাঙামাটিতে ১১ কেভি লাইনে ঝলসে গুরুত্বর আহত শ্রমিকের মৃত্যু

অবশেষে চারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার বিকেলে মারা গেছে রনজিত নামের এক বিদ্যুত শ্রমিক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় গত মঙ্গলবার বিকেলে রাঙামাটির ঘাগড়ার বগাপাড়ায় ১১ কেভি লাইনের তারের সাথে জড়িয়ে শরীর ঝলসে গুরুত্বর আহত হয়েছিলো রনজিত।

পেশায় শ্রমিক রনজিত বিদ্যুতের অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো বলে নিশ্চিত করেছেন কাউখালী বিদ্যুত অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী লাহুরি খান। জানাগেছে, ঘাগড়া এলাকার বগাপাড়ায় অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে শার্টডাউন করে ১১ হাজার কেভির খুটি লাইনে মেরামত কাজ করছিলো অনিয়মিত শ্রমিক রনজিত।

বিকেলে কাজ করা অবস্থায় কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ছাড়াই লাইনটি চালু করে দেয় সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষ। এসময় সাথে সাথেই ১১ কেভি লাইনের তারে জড়িয়ে গুরুত্বর আহত রনজিত। ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে বিদ্যুত বিভাগের লোকজন। কিন্তু বিদ্যুতের শকে শরীরের অর্ধেকাংশে চামড়া ঝলসে গিয়ে গুরুত্বর আহতাবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রনজিতকে চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে রেফার্ড করা হয়। 

মঙ্গলবার রাত থেকে সেখানে চিকিৎসাধীন রনজিত শুক্রবার বিকেলে মারাগেছে বলে বিদ্যুত বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুত বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট নোটশীট প্রদান করা হয়েছে এবং তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট এলার্কা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কাউখালী বিদ্যুতের আবাসিক প্রকৌশলী লাহুরী খান।

ঘাগড়ার দায়িত্বে থাকা বিদ্যুতের কর্মচারি মঙ্গলমনি চাকমা জানিয়েছেন, অফিসের সাথে কথা বলেই ১১ কেভি লাইনে কাজ করতে উঠেছিলো উক্ত রনজিত। সেসময় সে কাজ করা অবস্থায় কোনো প্রকার সংকেত ছাড়াই শার্টডাউনকৃত লাইন চালু করে দিলে সাথে সাথেই রনজিত ইলেকট্রিক শর্টে গুরুত্বর আহত হয়। 

এদিকে মাত্র আট মাস আগে এই একই ধরনের শার্টডাউন চলাকালীন সময়ে ভূলে ১১ কেভি লাইন চালু করলে কর্মরত অনিয়মিত শ্রমিক ফরহাদ নির্মমভাবে ঝলসে গুরুত্বর আহত হয়েছিলো। তারও আগে রাঙামাটি শহরের দেবাশীষ নগরের মূল সড়কের বিদ্যুতের খুটিতে কাজ করার সময় ১১ কেভি লাইনে হুক লাগিয়ে কাজ করার সময় আকস্মিকভাবে লাইন চালু করলে বাপ্পী নামের অনিয়মিত এক শ্রমিক ১১ কেভি লাইনে শক থেকে ৩০ ফুট নীচে পড়ে একদিন পরেই মারা যায়।