ফেসবুকে বিদ্যুৎ নিয়ে পোস্ট, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতাকে শোকজ


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ১১:৫৯ এএম, ২০২৬-০৮-৩১

ফেসবুকে বিদ্যুৎ নিয়ে পোস্ট, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

ফেসবুকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে পোস্ট করায় রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু আবরার আলভিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

২৯ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শাখার পক্ষ থেকে তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে জেলা ছাত্রদলের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আবু আবরার আলভির দেওয়া ফেসবুক পোস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে শোকজের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। একই ধরনের বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বিদ্যুৎ নিয়ে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে আবু আবরার আলভির বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো।

এ বিষয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ওমর মোর্শেদ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংগঠনবিরোধী পোস্ট ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় এই কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সংগঠনের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তবে এটি মূলত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলারই একটি অংশ। তিনি যদি শোকজের সন্তোষজনক জবাব প্রদান করেন, তবে বিষয়টি সাংগঠনিকভাবেই মীমাংসা করা হবে।”

অন্যদিকে, শোকজের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আবু আবরার আলভি বলেন, “তারেক রহমান আত্মসমালোচনাকে গুরুত্ব দেন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারাও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। আমিও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরতেই পোস্টটি করেছি। এতে দলের আদর্শ বা সাংগঠনিক অবস্থানের পরিপন্থী কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার পোস্টে সরকারের কোনো ত্রুটি, বিচ্যুতি বা দোষারোপের কথা বলা হয়নি। বিদ্যুৎ নিয়ে দেশের মানুষ ভুক্তভোগী, সেই বাস্তবতা থেকেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাই এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রশ্ন আসে না। বিষয়টি যদি কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিবেচনা করা উচিত।”

শোকজ নোটিশ দেওয়া হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত কোনো সাংগঠনিক শাস্তির সিদ্ধান্ত নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবু আবরার আলভির দেওয়া ব্যাখ্যার পর সংগঠন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।