রাঙামাটিতে পুলিশী অভিযানে হত্যাকারিসহ গ্রেপ্তার-৩০; মাদক ও চোলাই মদ উদ্ধার


আলমগীর মানিক    |    ০৭:৫২ পিএম, ২০২৬-০৮-১৮

রাঙামাটিতে পুলিশী অভিযানে হত্যাকারিসহ গ্রেপ্তার-৩০; মাদক ও চোলাই মদ উদ্ধার

আলমগীর মানিক
 
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন থানায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী, মাদক কারবারি, দাঙ্গাবাজ, খুন মামলার আসামি ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ৭০ গ্রাম গাঁজা, ৬ লিটার ৭৫০ মিলিলিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং একটি সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
 
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার কোতয়ালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি ও কাউখালী থানায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার করা হয়। এর পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ চেকপোস্টও পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ।
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতয়ালী থানার অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে ১১ জন, মাদক সেবন ও মাদকসহ ৩ জন এবং সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত ২ জনসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাঙামাটি পৌরসভার রিজার্ভ বাজার, শহীদ মিনার, মাঝেরবস্তি ও তবলছড়ি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
 
মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোর্শেদ আলম (২৮), নুর হোসেন (২১), এনামুল কবির (২৮), জয় চন্দ্র (২৯), নাহিদ হাসান সজিব প্রধান (২৯), সোহেল ওরফে কালা (৪৩), মোমিন উদ্দিন ওরফে মুন্না (৩২), ওমর ফারুক (৪৩), সাইদুল ইসলাম (৪০), মেহেদী (৩০) ও সাগর (২৮)।
 
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে সালাম (২৫), অর্নব ত্রিপুরা (২৯) ও অজয় ত্রিপুরা (২৪) এবং সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত মো. আমজাদ হোসেন (২৭) ও শ্যামলা দাশ (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। 
 
অন্যদিকে কাপ্তাই থানার অভিযানে একটি জিআর ওয়ারেন্টে নুরনবী কাঞ্চন (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। বাঘাইছড়ি থানার অভিযানে ২০ গ্রাম গাঁজাসহ চন্দন ধর (৫০)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
কাউখালী থানার পৃথক অভিযানে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ইমাম হোসেন (৩৬), নজরুল ইসলাম (২৯) ও রবিউল ইসলাম সুজন (২২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। একই থানার আরেক অভিযানে ৬ লিটার ৭৫০ মিলিলিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ ও একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ সাব্বির (৩২) ও সরোয়ার (২৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ আগস্ট কোতয়ালী থানার পৃথক বিশেষ অভিযানে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, খুন মামলার এক আসামি, দুই দাঙ্গাবাজ এবং এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের আভিযানিক দল কোতয়ালী থানাধীন জীবতলী, কাঠালতলী ও কোর্ট এলাকায় অভিযান চালায়।
 
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জিপতলী হেডম্যান পাড়ার স্বপন চাকমা (২৫), কোর্ট বিল্ডিং এলাকার মো. রবিউল হাসান (২২), লংগদুর ভাসান্যাদম এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম (২৫) এবং কাঠালতলী ধোপাপাড়ার রীতা দাশ (২৫)। তাদের মধ্যে স্বপন চাকমাকে খুন মামলায়, রবিউল হাসান ও সাইফুল ইসলামকে দাঙ্গাবাজির অভিযোগে এবং রীতা দাশকে জিআর ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
 
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে **১৬ আগস্ট** জেলার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ২৩টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে পুলিশ। এসব চেকপোস্টে ২৯০টি গাড়ি ও ৩৭৪টি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়। এ সময় ২২টি মোটরসাইকেল, ১২টি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মিনি ট্রাক আটক করা হয়। এর মধ্যে ১৮টি মোটরসাইকেল, সাতটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মিনি ট্রাকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।
 
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
 
রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।