রাজস্থলীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ২০ জন


আজগর আলী খান    |    ০৭:৪৩ পিএম, ২০২৬-১০-০১

রাজস্থলীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ২০ জন

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন রোগ নির্ণয় কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিয়মিতভাবেই নতুন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত এক সপ্তাহে রাজস্থলীতে মোট ২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু কর্নারে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নারে ভর্তি রয়েছেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার বিস্তার রোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো কঠিন হবে।

চিকিৎসকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর অনেকেই দেরিতে হাসপাতালে আসায় শারীরিক জটিলতা বাড়ছে।

তাই ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড জ্বর, হাড়ের জোড়ায় বা শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি এবং শরীরে র‌্যাশ দেখা দেওয়া।

গুরুতর অবস্থায় নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাওয়া, শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ, চামড়ায় কালচে ছোপ এবং তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, রাজস্থলী উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও বিভিন্ন এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলা সদর, বাসস্টেশন, হ্নারামুখ পাড়া, কলেজ পাড়া, বাজার এলাকা, মহাজন পাড়া, মহব্বত পাড়া, অংজাইন পাড়া, বাঙ্গালহালিয়া, ইসলামপুর, শফিপুর ও ছাগলখাইয়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা বলেন, এসব এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম তাদের চোখে তেমন পড়েনি।

ডেঙ্গুর প্রকোপ যেহেতু বাড়ছে, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও বিস্তারের আগেই নিয়মিত মশা নিধন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।