আলমগীর মানিক | ০৯:৪৫ এএম, ২০২৬-০৮-৩০
আলমগীর মানিক
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় হ্রদ তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বসতিগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট দুই ফুট করে খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে জানান, রোববার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে বাঁধের ১৬টি কপাট দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়। এর আগে শনিবার প্রথম দফায় গেটগুলো ৬ ইঞ্চি এবং পরে রাতে এক ফুট করে খোলা হয়েছিল। হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আজ সকালে গেটের ওপেনিং আরও বাড়িয়ে দুই ফুট করা হয়েছে।
মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ১০৬ দশমিক ২০ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। হ্রদের বিপজ্জনক সীমা ১০৯ ফুট এমএসএল। বর্তমানে পানি বিপজ্জনক সীমার নিচে থাকলেও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। গেট খুলে দেওয়ার পর হ্রদের পানি দ্রুত নিষ্কাশন শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই বর্তমানে সচল রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক—দুই পথে মোট প্রায় ৭১ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ইতোমধ্যে কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি উঠেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার অনেক মানুষ। হঠাৎ পানি বাড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
কাপ্তাই বাঁধের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদ তীরবর্তী নিচু এলাকা ও বসতিগুলোতে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ এবং ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য গেটের ওপেনিং বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে পানিবন্দি এলাকা ও ফসলি জমি থেকে পানি সরে গেলে ধাপে ধাপে গেটের ওপেনিং কমিয়ে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমে উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে গেলে বাঁধের স্পিলওয়ে গেট খুলে অতিরিক্ত পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এতে হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বসতিগুলোকে অতিরিক্ত পানির ঝুঁকি থেকে রক্ষার চেষ্টা করা হয়।
তবে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বা...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় সফরকালে আরশিনগর ক্যাম্প ও পুলিশ লাইনস পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের à...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামালির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগের প...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা দ...বিস্তারিত
আজগর আলী খান : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited