রাঙামাটিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে ধর্ষকের যাবজ্জীবন দন্ড


আলমগীর মানিক    |    ০৭:০৬ পিএম, ২০২৬-০৮-২৪

রাঙামাটিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে ধর্ষকের যাবজ্জীবন দন্ড

আলমগীর মানিক

রাঙামাটির কাউখালীতে আট বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আইয়ুব আলী সওদাগর নামের এক ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট)দুপুরে রাঙামাটির শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিশাত সুলতানা আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে জানান, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথক হওয়ার পর রাঙামাটিতে এটাই সর্বোচ্চ সাজার প্রথম রায় দিয়েছেন এই ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে কাউখালী থানাধীন কাশখালীর বঙ্গটিলার ২নং ওয়ার্ডের জনৈক মারমা পরিবারের দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশুটি বাড়ির পাশ দিয়ে বঙ্গিটিলায় যাওয়ার সময় আসামি আইয়ুব আলী সওদাগর তাকে ধানের জমিতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির স্কুলড্রেস ছিঁড়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানায় সে।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা-মা কাউখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, রাঙামাটিতে পৃথকভাবে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এটি সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার প্রথম রায়। এ রায়ের মাধ্যমে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।