মেহেদী হাসান | ০৭:৫৯ পিএম, ২০২৬-০৬-১৮
রাঙামাটি, ১৮ জুন: জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারকে অসাংবিধানিক, অযৌক্তিক এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালার পরিপন্থী উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জমির উদ্দিন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসন-৩১৯ এর সংসদ সদস্য আন্না মিনজ নিজেকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ ও ‘সমতলের নৃ-গোষ্ঠী’র প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন।
তবে অধিবেশন পরিচালনার সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করেন, যা পিসিসিপির মতে সংবিধান ও প্রচলিত রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের কোনো স্বীকৃতি নেই। সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর বিভিন্ন নির্দেশনায় ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে সরকারি অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
পিসিসিপি আরও দাবি করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক নথিতে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
ফলে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর দায়িত্বশীল পদে থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রয়োগ রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তারা মনে করে।
বিবৃতিতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের পূর্ববর্তী কিছু বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, তিনি অতীতে উপজাতিদের বাংলাদেশের প্রথম বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ধরনের বক্তব্য জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করে পিসিসিপি।
সংগঠনটি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ডেপুটি স্পিকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গোষ্ঠী তা নিজেদের অবস্থানের পক্ষে ব্যবহার করছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পিসিসিপি সরকারের কাছে দুটি দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথমত, জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ডেপুটি স্পিকারের উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার বা এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যে সাংবিধানিক পরিভাষা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
একই সঙ্গে সংগঠনটি সতর্ক করে জানায়, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বা...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় সফরকালে আরশিনগর ক্যাম্প ও পুলিশ লাইনস পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের à...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামালির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগের প...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা দ...বিস্তারিত
আজগর আলী খান : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited