আলমগীর মানিক | ০১:৩৮ পিএম, ২০২৬-০৬-১৬
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনলাইন হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমগাছের ডালে উঠতে হয়েছে। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের অনলাইনে উপস্থিতি পাঠানোর প্রথম দিনেই এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হন পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের।
সোমবার (১৫ জুন) থেকে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
তবে বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাদেও কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।
প্রধান শিক্ষক জানান, অনলাইন হাজিরা পাঠাতে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ের আশপাশে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেন। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে সংযোগ পান। সেখানে বসেই হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়েছি। হাজিরা পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় আমাকে ধমকও শুনতে হয়েছে।”
চাকরি রক্ষার তাগিদেই এমন ঝুঁকি নিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”
এদিকে প্রধান শিক্ষকের আমগাছে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্ক খোঁজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই দুর্গম এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থার কার্যকর বিকল্প বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেসব বিদ্যালয় থেকে অনলাইনে হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে হাজিরার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।”
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সংকটের বাস্তবতা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এ ঘটনা। ডিজিটাল ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বা...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় সফরকালে আরশিনগর ক্যাম্প ও পুলিশ লাইনস পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের à...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : রাঙামালির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগের প...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা দ...বিস্তারিত
আজগর আলী খান : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited