নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯:৫৪ পিএম, ২০২৬-০৪-২০
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে পাহাড়ি অঞ্চল।
গত ২০ জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই তিন জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ৩ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৬ জন বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য।
নিহত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন বান্দরবানের রুমা উপজেলার মো. রফিকুল ইসলাম (৩৫)। তিনি বনের কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুঁতে রাখা বিস্ফোরক দ্রব্যের বিস্ফোরণে নিহত হন।
একই জেলার থানচি উপজেলার সাখাওয়াত হোসেন (৩২) ব্যাংক ডাকাতির পরবর্তী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার অমল বিকাশ চাকমা (৪৫) দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির মধ্যে পড়ে নিজ বাড়ির উঠানে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ ও পারস্পরিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ছয়জন সশস্ত্র সদস্য।
নিহতদের মধ্যে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর লাললিয়ান সিয়াম পাংখোয়া, ভান লাল থাং বম ও জেসিং বম; ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর থুইপ্রু মং মারমা ও সুজন চাকমা; এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সংস্কার)-এর অনিমেষ চাকমা রয়েছেন।
বিভিন্ন ঘটনায় কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে, কেউ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এবং কেউ প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন।
গত তিন মাসে বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে সংঘটিত ব্যাংক ডাকাতি এবং অস্ত্র লুটের ঘটনাগুলো বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
এসব ঘটনার পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সময়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭২ জনের বেশি সশস্ত্র সদস্য ও তাদের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ড্রোন সরঞ্জাম।
এদিকে, ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
দুর্গম এলাকাগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া কলেজ পরিদর্শন করেছেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী দর্শন ও চিন্তাভাবনা ধারণ করে সুবিধাব...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিন, অর্থাৎ মোট ৬৪৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের (আরএইচড...বিস্তারিত
মেহেদী হাসান : মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের বৈরাগী বাজারে মাদকবিরোধ...বিস্তারিত
মনির হোসেন : ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মীর মোহ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited