আলমগীর মানিক | ০৬:২০ পিএম, ২০২৫-১০-২০
আলমগীর মানিক
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে স্বজাতি কর্তৃক প্রতিবন্ধী মারমা নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত তিন নরপশুর বিচারের দাবি ও স্থানীয় কার্বারীদের প্রথাগত বিচারের নামে উক্ত ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রতিবাদে (২০ অক্টোবর) সোমবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলার নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর হোসেন, ৩৫ কাঠুরিয়া স্মৃতি সংসদ এর আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মো: হুমায়ুন কবির’সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
বিক্ষোভ সমাবেশে পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের চংড়াছড়ি মুখ এলাকায় এক প্রতিবন্ধী মারমা নারীকে স্বজাতি তিন যুবকের হাতে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের ফলে ওই নারী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই বাচ্চার দায় কে নিবে? এই বাচ্চার অভিভাবক কে হবে?? নির্মম এই ঘটনায় অভিযুক্ত অনুচিং মারমা (৫০), কালা মারমা (৫৫) ও মং উ মারমা (৩৫ দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ঘটনায় গত ১৭ অক্টোবর স্থানীয় প্রথাগত রীতিতে একটি সামাজিক বিচার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত তিনজনকে ভিকটিমের জন্য মোট ৩ লাখ টাকা এবং সমাজের নামে শুকর ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, একই বিচারে ভিকটিমকেও “সমাজের নিয়ম ভঙ্গের” দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যা কখনো ন্যায় বিচার হতে পারে না মন্তব্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওই এলাকা একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিকদল জেএসএসের সশস্ত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় ভিকটিম পরিবারটি আতঙ্কের কারণে আইনের আশ্রয় নিতে পারছে না। এমনকি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বাঁধার কারণে ভিকটিমকে উদ্ধার করা যায়নি।
পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, “এই ঘটনা পাহাড়ে সামাজিক বিচারের নামে নারীর প্রতি সহিংসতার এক ভয়াবহ উদাহরণ। অপরাধীদের অর্থদন্ড দিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া বিচার ব্যবস্থা নয়, বরং অবিচার।”
এই নৃশংস ঘটনার পরও পাহাড়ের প্রভাবশালী উপজাতি সংগঠনগুলো ইউপিডিএফ, জেএসএস কিংবা কেএনএফ এরা কেউ-ই কোনো নিন্দা বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। চাকমা রাণী ইয়েন ইয়েন, মাইকেল চাকমা’সহ তথাকথিত সুশীল চেতনাবাজরা সবাই চুপ, এখন তাদের চেতনা দাঁড়ায় না, প্রতিবাদ আসেনা তাদের কন্ঠে! অথচ, কোনো বাঙালির বিরুদ্ধে পাহাড়ি নারীর প্রতি অভিযোগ উঠলেই এসব সংগঠন ও ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলন, প্রচার ও অপপ্রচারে নেমে পড়ে, যা অনেক সময় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
খাগড়াছড়িতে মিথ্যা ধর্ষণের ইস্যু নিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে দিলেও রাঙামাটিতে মারমা প্রতিবন্ধী মেয়েটি প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণ হলেও সকলেই চুপ। “এই দ্বিমুখী নীরবতা প্রমাণ করে, পাহাড়ে মানবাধিকারের প্রশ্নটি অনেক সময় রাজনীতির ছায়াতলে চাপা পড়ে যায়।” বলেও জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবগঠিত সদস্যদের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার, মাদক উদ্ধ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির কাউখালীতে আট বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আইনজীবীদের আরও কঠ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চার মাদক কারবারি, পাঁচ মাদকসেবী ও এক ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited