বিলাইছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে চারজনের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন


বিলাইছড়ি প্রতিনিধি    |    ০৮:০১ পিএম, ২০২৬-০৯-২৩

বিলাইছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে চারজনের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন

দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার চারজন স্থানীয় রোগীর চোখের ছানি অপারেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিলাইছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় এবং রাঙামাটি রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে রাঙামাটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী থুই জাই মারমা, ৬৬ বছর বয়সী তলশী মালা তঞ্চঙ্গ্যা, ৩৪ বছর বয়সী ছিন্নু মা মারমা এবং ৭৯ বছর বয়সী পুনংচান তঞ্চঙ্গ্যা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ অনেক সময় দূরত্ব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কঠিন হয়ে পড়ে।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে।

বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাঙামাটি সিএমএইচে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর সংশ্লিষ্ট চারজন রোগীর সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অপারেশনের পর রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তাঁদের মতে, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন, তাঁদের জন্য এই ধরনের মানবিক সহায়তা নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, ত্রাণ এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় বাস্তবায়ন করে আসছে।

ভবিষ্যতেও স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে, যাতে দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা ও সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত না হন।

“শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন” এই প্রত্যয়কে ধারণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।