রাঙামাটিতে একসাথে তিন ছেলের জন্মদিয়ে সংকটাপন্ন প্রসূতি মা


আলমগীর মানিক    |    ০১:৫৮ এএম, ২০২৪-০৬-১৩

রাঙামাটিতে একসাথে তিন ছেলের জন্মদিয়ে সংকটাপন্ন প্রসূতি মা

রাঙামাটি শহরে একই সাথে তিন সন্তানের জন্ম দিয়ে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েছে এক প্রসূতি মা। একই দিনে একই সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ১০ই জুন তিন সন্তানের জন্ম দেন রাঙামাটি শহরের পর্যটন এলাকার দেওয়ান পাড়ার বাসিন্দা জনৈক জালাল উদ্দিনের স্ত্রী জিহাজান বেগম। একই সাথে তিন সন্তানের সুস্থাবস্থায় দুনিয়াতে আগমনে খুশির জোয়ারে ভাসতে থাকার কথা থাকলেও সন্তান জন্মদানের পরপরই প্রসূতি জিহাজানের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। 


সাথে সাথেই প্রসূতি মাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি থাকলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দিনমজুর স্বামী জালাল উদ্দিন ক্লিনিকের বিল পরিশোধের পর স্ত্রীকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যান।  


স্থানীয়দের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে পরবর্তীতে মুমুর্ষ স্ত্রী ও তিন নবজাতক সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করান জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, সে অনেক কষ্ট করে এলাকার লোকজনদের সার্বিক সহযোগিতায় তার স্ত্রীকে চট্টগ্রাম নিয়ে ভর্তি করেছেন।

বর্তমানে জিহাজান বেগম তিন শিশু সন্তান নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যু সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এমতাবস্থায় স্ত্রী-সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ ও খাবার যোগান দিতে পারছেন না তিনি। আর্থিক অভাব অনটনের ফলে এখন তার শিশু সন্তানদের চিকিৎসার ভারবহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার।

এমতাবস্থায় রাঙামাটিসহ দেশের স্বহৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের নিকট আর্থিক সহায়তা কামনা করে জালাল উদ্দিন বলেন, আমার তিন ছেলে সন্তানসহ আমার অসুস্থ স্ত্রীকে বাঁচাতে হলে যে অর্থের প্রয়োজন সেই অর্থ আমার নেই। তাই তিনি হৃদয়বান ব্যকিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহায়তার প্রার্থনা করেছেন। 


এদিকে, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার শওকত আকবর খান জানিয়েছেন, জিহাজান বেগম, তার নবজাতক তিন জমজ শিশু সন্তান নিয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো। এখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় আমরা তাদেরকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার্ড করেছি। 


জিহাজান বেগমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন শিশু চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের অবস্থা মোটামুটি ভালো। কিন্তু এই অবস্থায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ভালোমানের খাবারের প্রয়োজন। কিন্তু দিনমজুর জালাল উদ্দিনের পক্ষে সেটি করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা। তার সহৃদয়বান ব্যক্তিবর্গ তিন সন্তান ও তাদের প্রসূতি মায়ের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ালে ছেলেগুলোসহ তাদের মা হয়তো বেঁেচ যাবে।