রাঙামাটিতে ৫ম দফায় জমিসহ ঘর পেল আরো ৬৮০ পরিবার


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০১:০৯ এএম, ২০২৪-০৬-১২

রাঙামাটিতে ৫ম দফায় জমিসহ ঘর পেল আরো ৬৮০ পরিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, সবাই উন্নত জীবন পাবে, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। রাঙামাটি জেলার আরো ৬৮০ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারসহ সারা দেশের ১৮ হাজার ৫৬৬টি বাড়ির চাবি ও ভূমির দলিল হস্তন্তর ঘিরে মঙ্গলবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।


সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের প্রকল্প ‘আবাসন কর্মসূচি আশ্রয়ণ-২ এর আওতায়’ সারাদেশে  উল্লেখিত সাড়ে ১৮ হাজার উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন এবং বক্তব্য প্রদান কালে এ কথা বলেন।


ভূমিহীনদের গৃহ প্রদানের পঞ্চম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে মঙ্গলবার রাঙামাটির ৬৮০ পরিবার ঘর পায়। এ উপলক্ষে উপকারভূগী থাকা প্রতিটি উপজেলায় পৃথকভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে কর্মসূচি উদ্বোধনের পর রাঙামাটির সদর উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা উপকারভোগীদের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। এ সময় রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদজ্জামান মহসিন রোমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটিতে মোট ভূমিহীনের সংখ্যা ৩,০৯০। এরমধ্যে পাঁচ ধাপে মোট ২,২৫২ পরিবারকে ইতোমধ্যে ঘর প্রদান করা হয়েছে। পঞ্চম পর্যায়ের ২য় ধাপে মঙ্গলবার আরো ৬৮০ পরিবারকে ঘরের চাবি হস্তান্তরের পর এ জেলায় ভূমিহীনদের মধ্যে ঘর পাওয়ার বাকি থাকলো আর মাত্র ৯৬টি পরিবার। এবার পেলো সদর উপজেলায় ০৪টি, কাপ্তাইয়ে ৪০টি, কাউখালীতে ১৩টি, রাজস্থলীতে ২৫টি, বরকলে ৩৫টি, বিলাইছড়িতে ১১টি, বাঘাইছড়িতে ৪২২টি, লংগদুতে ১২৬টি এবং নানিয়ারচর উপজেলায় ০৪টি ঘর।


এর আগে জেলা প্রশাসক ঘরপ্রদান ঘিরে আযোজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ১ম পর্যায়ে রাঙামাটি জেলায় গত ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ২৭৬টি, কাউখালী-১০টি, কাপ্তাই-৬৮টি, রাজস্থলী-১৯০টি, বিলাইছড়ি-১০টি, বরকল-১৯টি,জুরাছড়ি-১০টি, বাঘাইছড়ি-৮০টি, লংগদু-৪৫টি এবং নানিয়ারচর-২৮টি’সহ সর্বমোট ৭৩৬টি গৃহ উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।


২য় পর্যায়ে ২০২১ সালের ২০ জুন তারিখে রাঙামাটি সদরে-১০০টি, কাপ্তাই-০৫টি, রাজস্থলী-৪৯টি, বাঘাইছড়ি-৮০টি, লংগদু-১৫০টি, নানিয়ারচর-৩৩টি,  বিলাইছড়ি-২৭টি এবং কাউখালী-৫৯টিসহ মোট ৫০৩ টি গৃহ উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।


৩য় পর্যায়ে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল তারিখে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় বরাদ্দকৃত ২৭৮টি গৃহের মধ্যে বাঘাইছড়িতে-৯০টি, লংগদু-১০টি, নানিয়ারচর-১১টি, বরকল-৫৫টি এবং কাউখালী-৪০টি এবং পরবর্তীতে কাপ্তাই-২৬টি, বরকল-০৫টি এবং নানিয়ারচর-০১টিসহ সর্বমোট ২৩৮টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়।


৪র্থ পর্যায়ের (১ম ধাপ) গত ২২ মার্চ (বুধবার) ২০২৩ ইং তারিখে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার ৩য় পর্যায়ের লংগদু উপজেলার অবশিষ্ট ৪০টি, ৪র্থ পর্যায়ে ০৮টি, রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৮৪টি, বাঘাইছড়িতে ৮০টি, লংগদু(৩য় পর্যায়ের ৪০টি গৃহসহ) ৮৩টি, নানিয়ারচর-২৭টি, বরকল-৪০টি, রাজস্থলী ১৪টি, জুরাছড়িতে ৭০টি এবং কাউখালী উপজেলায় ৪১টি’সহ মোট ৪৩৯টি।


৪র্থ পর্যায়ের (২য় ধাপ) গত ০৯ আগষ্ট ২০২৩ তারিখে রাঙামাটির ০৬ উপজেলার কাপ্তাই উপজেলায় ১১টি, বাঘাইছড়ি-১০০টি, লংগদু’য় ৩২টি, বরকল ২০টি, রাজস্থলীতে ১টি, এবং কাউখালীতে ৪৯টি’সহ মোট ২১৩টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়।


৫ম পর্যায়ের (১ম ধাপ) গত ১৪ নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় বরাদ্দকৃত ৮৬০টি গৃহের মধ্যে বাঘাইছড়িতে ১০০টি, কাউখালীতে ০৮টি, কাপ্তাইয়ে ১৪টি, রাঙামাটি সদর উপজেলায় ১টি টিসহ সর্বমোট ১২৩টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়।