চাকমা তরুণীকে চীনে পাচার! রাঙামাটিতে মানবপাচার আইনে মামলা


আলমগীর মানিক    |    ১২:২০ এএম, ২০২৪-০৫-০২

চাকমা তরুণীকে চীনে পাচার! রাঙামাটিতে মানবপাচার আইনে মামলা

আলমগীর মানিক

পাহাড়ি চাকমা তরুনীকে তুলে নিয়ে রাজধানীতে আটকে রেখে চীনে পাচারের চেষ্ঠা করছে উল্লেখ করে উক্ত তরুনীকে উদ্ধারের আকুঁতি জানিয়ে এবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ভিকটিমের ভূক্তভোগী বোন। বুধবার বিকেলে রাঙামাটির নানিয়ারচর থানায় এই অভিযোগে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এই মামলায় পাহাড়ি চার নারী পাচারকারী ও চারজন পুরুষ পাচারকারিসহ মোট আটজনের নামোল্লেখ করে আরো ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামী করা হয়েছে। নানিয়ারচর থানা পুলিশ মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে। তদন্তের স্বার্থে আসামীদের বিস্তারিত জানাতে অপারগতা জানিয়েছে থানা পুলিশ।

মামলার এজাহারে ভিকটিমের বোন উল্লেখ করেন, তারই ছোট বোন বিউটি (ছদ্মনাম) চাকমা(২১)কে ঢাকায় নার্সিংয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নাম করে গত ০১/০৪/২০২৪ ইং তারিখে রাঙামাটির নানিয়ারচর থানাধীন বুড়িঘাট ইউনিয়নের গর্জণতলী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের করে নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের জুরাছড়ি বেনুবন এলাকায় নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে তাকে সেখান থেকে তাকে মাইক্রোবাস যোগে ঢাকা নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, মাইক্রোবাসে যাওয়ার সময় আসামীদের কথাবার্তায় নার্সিং পড়তে যাওয়া বিউটি (ছদ্মনাম) চাকমা(২১) বুঝতে পারেন তিনি নারী পাচারকারিদের খপ্পড়ে পড়েছেন। 

জনৈক রিকা চাকমার নেতৃত্বে একদল নারী পাচারকারি উক্ত তরুনীকে চীনের নাগরিকের সাথে জোর করে বিয়ে দেয় এবং তার সাথে আপত্তিকর ছবিও তোলে।

রাজধানীর অজ্ঞাতস্থানে বন্ধি অবস্থা থেকে যেকোনো সময় তাকে চীনে পাচার করে দেওয়া হতে পারে এমন তথ্য জানিয়ে উক্ত ভিকটিম তরুনী তার বড়বোনকে গত ০৭/০৪/২০২৪ ইং তারিখে ফোন করে তাকে উদ্ধারের আঁকুতি জানায়। বিষয়টি লিখিত আকারে নানিয়ারচর থানা পুলিশকে অবহিত করে মানবপাচার মামলা করে ভিকটিমের বড় বোন। 

নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদককে জানান, ভিকটিমের বোনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মানবপাচার ও প্রতিরোধ আইন ২০১৮ এর ৬/৭/৮ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যাহার মামলা নং-১ তারিখ: ০১/০৫/২০২৪ইং।  এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


এদিকে, রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহাম্মেদ জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ি নারীদের চীনে পাচারের খবরে টনক নড়েছে স্থানীয় প্রশাসনের। ইতিমধ্যে পাচার চক্রের সদস্যদের ধরতে কাজ শুরু করেছে রাঙামাটির পুলিশ। প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ মাধ্যমে পাহাড় থেকে নারীদের চীনে পাচারের বিষয়টি রাঙামাটির পুলিশের নজরে এসেছে।

বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মন্তব্য করে এই বিষয়ে আমলে নিয়ে পুলিশ নিষ্টার সাথেই তদন্ত করছে বলেও জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। 


এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, পাহাড়ি চাকমা তরুনীকে চীনে পাচারের মূল হোতা ঢাকা উত্তরার ১৪ সেক্টরে বসবাস করা রিকা চাকমা নামের একজন চাকমা নারী। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলাধীনর রাঙ্গাপানি ছড়া গ্রামে। এই মামলায় তার সাথে রাঙামাটি সদর উপজেলাধীন সাপছড়ি ইউনিয়নের কামারপাড়ার এক পুরুষ ও একজন নারী, খাগড়াছড়ির দীঘিনালার উদাল বাগান এলাকার দুই নারীসহ অজ্ঞাত ঠিকানার দু’জন পুরুষের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।