রাঙামাটিতে সাবেক যুবলীগ নেতা মুজিবের জামিন না মঞ্জুর; জেলে প্রেরণ


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:১১ পিএম, ২০২২-০৫-১১

রাঙামাটিতে সাবেক যুবলীগ নেতা মুজিবের জামিন না মঞ্জুর; জেলে প্রেরণ

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে টেন্ডার দরপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষমতাসীনদলের নেতা ও এফপিএবি রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব ওরফে দীপুকে বুধবার গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। 

বুধবার চম্পকনগরের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ মুজিবকে গ্রেফতার করে রাঙামাটির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বেগম ফারহানা ইয়াসমিনের আদালতে নিয়ে আসলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। তবে সেদিনের ঘটনাস্থলে মুজিবুর রহমান দীপু ছিলেন না বলে জানা গেছে। তার আনা লাইসেন্সে স্বজনরা দরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। মুজিবুর রহমান দীপু সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে রাঙামাটি জেলা যুবলীগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

প্রসঙ্গতঃ গত ৯ মে সোমবার রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে অস্থায়ী ভিত্তিতে ২২ জন ‘নিরাপত্তা সেবাকর্মী সংগ্রহে ‘ক্যাটাগরি-৫’ এর দরপত্র জমা দিতে গেলে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজদ্বীপ ট্রেড সার্ভিসেস লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী জয়ন্ত লাল চাকমা ও তার সহকর্মীরা, এসময় অপর এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ দরপত্রের প্যাকেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ মেডিকেল কলেজের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহ জামান রিপনকে শনাক্ত করে। রিপন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং গ্রেফকৃত মুজিবুর রহমান দীপুর শ্যালক।

ঘটনার দিন বিকালে বাদী হয়ে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন জয়ন্ত লাল চাকমা। মামলায় মুজিবুর রহমান দীপু, শফিউল আলম ও শাহ এমরান রিপন, এই তিন জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ করে জয়ন্ত লাল চাকমা। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তাকে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

রাজদ্বীপ ট্রেড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়ন্ত লাল চাকমা বলেন, ঘটনার দিন আমরা দেড় লাখ টাকার পে-অর্ডার সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দরপত্র জমা দিতে গেলে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের প্রবেশ গেটেই আমাদের গতিরোধ করে ১০/১৫ জন দুর্বৃত্ত দরপত্র প্যাকেটটি ছিনিয়ে নেয়। আমরা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। ওইদিন পরে আমরা তিন জনের নাম উল্লেখসহ ১০/১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করি।

এদিকে, উপরোক্ত অভিযোগ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত বক্তব্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও গ্রেফতারকৃত মুজিবুর রহমান দীপুর শ্যালক শাহ এমরান রোকন নিজের বক্তব্যে বলেন, জয়ন্ত লাল চাকমা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট।

মুলতঃ আমাদের পরিবারের সুনাম নষ্ট করতে এ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। রোকন বলেন, আমি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। আমরা আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান। সামনে জেলা আওয়ামীলীগের নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ আমার পরিবারের সুনাম নষ্ট করে দিতে ষড়যন্ত্র করছে। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা জয় ত্রিপুরা হত্যাকান্ডের পর আমাদের পরিবারের আমি, আমার ছোট ভাই রিপন এ হত্যার বিচারের দাবীতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। এটি সহ্য না হয়ে জয়ের হত্যাকারীরা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি মনে করি এ ষড়যন্ত্রকারীরা জয় ত্রিপুরার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।

রোকন আরো বলেন জয়ন্ত লালের সাথে আমার দীর্ঘদিনের ব্যবসা আছে। আমরা এক সাথে কাজ করছি। তবে জয়ন্ত লালের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তিনি বিভিন্ন জনকে উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরী দেবে বলে অনেকের কাছে টাকা নিয়েছে। কিন্তু চাকুরী দিতে পারেনি। এ নিয়ে বোর্ডের লোকজন সবাই জানে। জয়ন্ত কত জনের সাথে প্রতারণা করেছে সে বিষয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট করা দরকার।