রাজস্থলীতে নির্ধারিত সময়ে মডেল মসজিদ নিমার্ণে অনিশ্চয়তা!


আজগর আলী    |    ০১:২১ পিএম, ২০২১-০৬-১৩

রাজস্থলীতে নির্ধারিত সময়ে মডেল মসজিদ নিমার্ণে অনিশ্চয়তা!

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার, উপজেলা পরিষদ মাঠের পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ প্রায় একবছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যদিও মডেল মসজিদ নির্মাণে মাটির নিচের অবকাঠামো এবং মাটির উপরের প্রথম তলার নিচের বিমের কাজ শেষ থমকে থাকার কারণে রড গুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। ফলে দিনে দিনে রডের কার্যক্ষমতা কমছে বহুগুণে। আর এমন দৃশ্য দেখে উপজেলার সাধারন মানুষের মনে ক্ষোভ আর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫০ টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন করে সমগ্র বাংলাদেশে একটি নজির স্থাপন করেছে। আর পাশা পাশি আশ পাশের জেলা সহ বিভিন্ন উপজেলায় দৃ্ষ্িটনন্দন মডেল মসজদি নির্মাণ কাজ শেষ হলে ও রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মানে ঠিকাদারের ধীরগতি আর অবহেলার কারণে আটকে গেছে নির্মাণ কাজ।

ফলে এ রাজস্থলী উপজেলার ধর্মপ্রাণ  হাজার হাজার মুসলমানদের মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও রাঙামাটি সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ দীপংকর তালুকদার ( এমপির)  হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলাবাসী।

সূত্রে জানাগেছে, ইসলামী ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ও গণপূর্ত বিভাগের তদারকিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যােগ নেয় সরকার। সারাদেশের মতো রাজস্থলী উপজেলায় একটি মডেল মসজিদ নির্মাণে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। আর এই মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান ব্যাঙ্গ বিল্ডার্স  এন্টারপ্রাইজ। পরে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ ২০১৯ শেষে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের ধীরগতি আর অবহেলার কারণে আটকে যায় নির্মাণ কাজ। ফলে দুইবছর মেয়াদী নির্মাণ কাজ নির্ধারিত মেয়াদে শেষ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

 উপজেলা চেয়ারম্যান উবাচ মারমা বলেন, কাজ শুরুর পর সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ কাজ শেষ না হতেই নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের ধীরগতি এবং বরাদ্ধের টাকা না পাওয়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। রাজস্থলী মডেল মসজিদ নির্মাণে তত্বাবধায়নে থাকা জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইকবাল বাহার চৌধুরীর সাথে টেলিফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, মডেল মসজিদ বিষয় নিয়ে ঠিকাদারের সাথে আলাপ করেছি খুবই শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। আমরা মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে উপস্থাপন করেছি। আসলে মডেল মসজিদ নির্মানে প্রথম থেকে অবহেলার শিকার হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণ কাজ ধীরগতি চলছে, আমরা চিটি প্রেরন করেছি তবে যথাসময়ে কাজ শুরু হবে। ব্যাঙ্গ বিল্ডাসের পরিচালক শফি উদ্দিনের সাথে মুঠোফোন কথা বল্লে তিনি কিছুক্ষণ পর ফোন দিবেন বলে ফোন রেখেদেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধীকার ভিত্তিক প্রকল্পের কাজ ভেস্তে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। ফলে মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ দ্রুত চালু করার জন্য এলাকাবাসীর প্রানের দাবী।