পাহাড়ে শান্তি,সম্প্রীতি ও উন্নয়ন এগিয়ে নিতে মীর হেলালকে স্বপদে বহালের দাবি পিসিএনপি'র


আলমগীর মানিক    |    ০৫:১৬ পিএম, ২০২৬-০৯-২৯

পাহাড়ে শান্তি,সম্প্রীতি ও উন্নয়ন এগিয়ে নিতে মীর হেলালকে স্বপদে বহালের দাবি পিসিএনপি'র

আলমগীর মানিক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে স্বপদে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে মীর হেলালের ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীর মৃধা ভবনে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সম্প্রতি গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে পাহাড়ে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ, পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ আট দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজমের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নীতি নির্ধারণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান।

তবে দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ থাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের ভূমিকার প্রশংসা করে তাকে স্বপদে বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির নেতাদের দাবি, পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে মীর হেলালের নেওয়া উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এ কারণে তাকে দায়িত্বে রাখার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় পিসিএনপি।

পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ সময় পরও পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। চুক্তির বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নের পরও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় বর্তমান বাস্তবতা ও এর প্রভাব পর্যালোচনা করে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জেএসএসের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে পিসিএনপি। তাদের অভিযোগ, জেএসএস অস্ত্র ও সশস্ত্র তৎপরতা পুরোপুরি পরিত্যাগ না করেই শান্তিচুক্তির দোহাই দিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেএসএসের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়নি।

সম্প্রতি শিশির চাকমার দেওয়া সংবাদ সম্মেলনেরও প্রতিবাদ জানিয়ে পিসিএনপি নেতারা বলেন, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বসাধারণের প্রতিনিধি নন। তার বক্তব্যকে তারা জেএসএসের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন।

পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানায় পিসিএনপি।

একই সঙ্গে পাহাড়ে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে ‘লিগ্যাল টাস্কফোর্স’ গঠন, জেলা পরিষদের ন্যস্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগ পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া এবং ১ শতাংশ উপজাতীয় কোটার পরিবর্তে পিছিয়ে পড়া সব জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর কোটা’ চালুর দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে জনসংখ্যার অনুপাতে সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত এবং বিদেশি এনজিওগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদারকির ব্যবস্থার দাবিও জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে পিসিএনপি কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটির যেকোনো গঠনমূলক উদ্যোগে নাগরিক পরিষদ সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দাবি জানানোর পরও সরকার পার্বত্য এলাকার স্থানীয়দের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিগগিরই পাহাড়ের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে ‘একদফার দুর্বার আন্দোলন’ গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে পুরো পার্বত্যাঞ্চল অচল করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর হোসেন, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ পিসিএনপি, পিসিসিপি, পিসিজেপি ও পিসিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।